গায়ত্রী মন্ত্র: শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে কেন একে 'বেদমাতা' বলা হয়?
আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য উৎস হলো গায়ত্রী মন্ত্র।
গায়ত্রী মন্ত্রের উৎপত্তি ও পরিচয়
সনাতন ধর্মে গায়ত্রী মন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। ঋষি বিশ্বামিত্র সবিতার (সূর্যদেব) উদ্দেশ্যে এই ঋক বা মন্ত্রটি দর্শন করেছিলেন। এই মন্ত্রটি গায়ত্রী ছন্দে রচিত বলে একে 'গায়ত্রী' বলা হয়। আবার সবিতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত বলে এর অন্য নাম 'সাবিত্রী'।
"যে মন্ত্র গাইতে গাইতে সংসার যাতনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়, তাই গায়ত্রী।"
সকল মন্ত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণে একে শাস্ত্রে 'বেদমাতা' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
মূল গায়ত্রী মন্ত্র ও সরলার্থ
ওঁ ভুঃ ভূবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি
ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
মন্ত্রের অর্থ:
ত্রিভুবনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরীরূপে বিদ্যমান সেই সৃষ্টিকর্তার বরণীয় তেজকে আমরা ধ্যান করি। এই তেজ বা স্বরূপশক্তি আমাদের মায়া ও অজ্ঞানতাকে পরাভূত করতে সক্ষম। সেই সবিতা যেন আমাদের বুদ্ধিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
গায়ত্রী পাঠের সঠিক নিয়ম
শাস্ত্রীয় ফল লাভের জন্য গায়ত্রী পাঠের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে:
- সময়: প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যায় (ত্রিসন্ধ্যা) এই মন্ত্র পাঠ করা শ্রেষ্ঠ।
- শুচিতা: হাত, পা ও মুখ ধুয়ে পবিত্র হয়ে পাঠ করতে হয়।
- দিক: পাঠ করার সময় পূর্বমুখী বা উত্তরমুখী হয়ে বসা উচিত।
- সংখ্যা: প্রতিদিন অন্তত ১০৮ বার পাঠ করা বিধি। তবে সম্ভব না হলে কমপক্ষে ১০ বার পাঠ করতে হবে।
- সতর্কতা: সকালে গায়ত্রী পাঠের পূর্বে জল গ্রহণ করা নিষেধ।
গায়ত্রী মন্ত্র পাঠের সুফল
নিয়মিত গায়ত্রী পাঠ করলে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে:
- মন ও প্রাণের উদারতা: নিয়মিত পাঠে মন সুন্দর ও শান্ত হয় এবং সংকীর্ণতা দূর হয়।
- একত্ববোধ: বিশ্বের সবকিছুর মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায়।
- বুদ্ধির বিকাশ: এটি আমাদের বুদ্ধিকে শুদ্ধ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
- মায়া মুক্তি: পরমেশ্বরের শরণ নিলে তিনি আমাদের সংসারের মায়াজাল থেকে মুক্তি দেন।
