হিন্দু ধর্মে প্রতিদিন অন্তত দুইবার ৫–১৫ মিনিট সময় ধরে ব্রহ্ম বা বিশুদ্ধ পরিবেশে নিম্নলিখিত মন্ত্রগুলি উচ্চারণ করা অনুষ্ঠিত। দশ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্ত্রগুলির নিয়মমাফিক পাঠ করলে:
- শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক শক্তি ও সুখ বৃদ্ধি পায়।
- অলৌকিক সুরক্ষা আবরণ তৈরি হয়।
- অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
সম্ভাব্য সময়ে—প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায়— মন্ডপে বা উদ্যান-সমবায়ে পাঠ করলে ফল আরও প্রবল। বহু শতবর্ষ ধরে এই মন্ত্র শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে ।
মূল ১৫টি মন্ত্র
ওঁ শ্রী বিষ্ণুঃ ওঁ শ্রী বিষ্ণুঃ ওঁ শ্রী বিষ্ণুঃওঁ ভূভুবঃ স্বঃ তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহিধিয়াে য ন প্রচোদয়াৎ ।ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ম মহাদ্যুতিম্ ।ধ্যান্তরিং সর্বপাপঘনং প্রণতােস্মি দিবাকরম্ ।ওঁ বক্রতুন্ড মহাকায় সূর্যকোটিসমপ্রতনির্বিঘ্নাং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষ্ণু সর্বদাওঁ নমাে গণপতয়ে । ওঁ নমাে গণপতয়ে ।ওঁ বন্দে সর্বভূতে বিরাজমানম্ ঈশ্বরম্ একমেবাদ্বিতীয়ম্প্রণমামি দেবরূপেণ তান্ সর্বান্ ঈশ্বরপ্রেরিত দূতান্ঈশ্বর - প্রেরিতা দূতা আগচ্ছন্তি দেবরূপেণ পুনঃ পুনঃতন্মধ্যে শ্রেষ্ঠত্রয়ং ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ ।ওঁ নমাে ব্রহ্মণ্য দেবায় গাে ব্রাহ্মণ হিতায় চজগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ।ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনেপ্রণত ক্লেশনাশায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ।ওঁ নাগেন্দ্রহারায় ত্রিলােচনায় ভস্মাঙ্গরাগায় মহেশ্বরায়নিত্যায় শুদ্ধায় দিগম্বরায় তস্মৈ নকারায় নমঃ শিবায় ।ওঁ মন্দাকিনী সলিল - চন্দনচর্চিতায়নন্দীশ্বর - প্রমথনাথ - মহেশ্বরায় ।মন্দারপুষ্প - বহুপুষ্প সুপুজিতায় তস্মৈ মকারায় নমঃ শিবায় ।ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হে তবেনিবেদয়ানি চাত্মানং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বরঃ ।ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবিদর্দ্ধনম্উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ ।ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে , শিবে সর্বার্থলাপিকেশরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমােহন্তু তে ।ওঁ ত্রিমস্তকানাং জ্ঞানম্ একশিরে অবস্থিতংচতুর্বাহুল্যবলং দ্বিহস্তে ব্রোপিতম্ ।ভক্তেচ্ছাপূরণার্থং পুনঃ পুনঃ আবির্ভূতম্প্রণমামি তং হি ঈশ্বরপ্রেরিতদৃতম্ ।ওঁ য আস্তিকো ধর্মনিষ্ঠঃ স বৈ শূরাে ন নাস্তিকঃনাস্তিকঃ কাপুরুষােঅভূৎ পৃথিব্যাৎ পরিধাবতি ।একাশং স্বােপার্জনেস্য দেয়ম্ দীনজনায় ।যে ভূঞ্জীত - স্বয়মেব , স মােঘং কেবলদী চ ।ওঁ ঈশা ব্যসমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎতেন ত্যক্রেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যষিদ্ধনম্ ।ওঁ তুমব মাতা চ পিতা ত্বমেব , ত্বমেব বন্ধু সখা ত্বমেবতুমেৰ বিদ্যা দ্রবিণং ত্বমেব , ত্বমেব সর্ব মম দেবদেব ।
এগুলো মূলত বীজমন্ত্র—আবৃত্তিকারীর জীবন ও পরলোক যাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মন্ত্র পাঠের সুপারিশ
- দুপ্তরের আগে এবং সন্ধ্যায় বা মন্দিরে একত্রে জপ করুন।
- প্রত্যেকটি মন্ত্র ৫–১০ বার অন্তত আবৃত্তি করুন।
- মন্ত্রের অর্থ বুঝে, ভক্তিবান্ধব মন দিয়ে পাঠ করুন।
- প্রয়োজনে যোগ্য গুরু বা পন্ডিতের সহায়তা নিন।
মন্ত্রের ব্যবহার ও সতর্কতা
- ভবর্চনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সংখ্যা মন্ত্র পাঠ প্রয়োজন হলে যোগ করুন।
- উপাচারে স্বার্থসিদ্ধি, পরহিত, ধর্মীয় কাজের উদ্দেশ্যে মন্ত্র পাঠ করুন, দেখানো বা অহংকারে নয়।
- জ্ঞান বা ব্রহ্ম চিন্তার উপলব্ধি ছাড়া গোঁড়া ধর্মাচরণ থেকে বিরত থাকুন—কারণ এটি ধর্মের বিকৃতি করতে পারে ।
উপসংহার
এই ১৫টি পৌনঃপুনিক মন্ত্র শুধু শাস্ত্রীয় নির্দেশ নয়—এগুলো মানবজীবনের গুণাবলী, শৃঙ্খলাবদ্ধতা ও আন্তরিক ভক্তির প্রতীক। প্রতিদিন নিয়ম মেনে উচ্চারণ করলে জীবন ঘনিষ্ঠভাবে পবিত্রতা, শান্তি ও সাফল্যে পরিপূর্ণ হয়।

Comments
Post a Comment