একাদশী চন্দ্রার্ধের একাদশ তিথি, যা শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষে বছরে প্রায় ২৪–২৬ বার আসে। এটি হিন্দু ধর্মে ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে নিরামিষ বা কঠিন উপবাসের মাধ্যমে পালন করা হয়।
একাদশীর গুণ ও উদ্দেশ্য
- মন ও ইন্দ্রিয়চালনের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আত্মা নিয়ন্ত্রিত হয় ।
- উপবাসের ফলে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আত্মিক পরিবর্তন আসে।
- ভগবান বিষ্ণুর প্রতি ভক্তি-নিবেদন বৃদ্ধি পায়, যা জীবনে মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনে।
ব্রত পালন পদ্ধতি
একাদশী পালন পদ্ধতি বিভিন্ন, তবে মূল পাঁচটি ধরন হলো :
- নির্জলা (Nirjala): একদিবস জলও না খেয়ে কঠিন উপবাস।
- জলাহারী (Jalahar): শুধুই জল পান করতে পারবেন।
- ক্ষীরভোজী (Ksheerbhoji): দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা যায়।
- ফলাহারী (Phalahari): শুধুই ফলমূল খাওয়া যায়।
- নক্তভোজী (Naktabhoji): একটি মাত্র সন্ধ্যাবেলার খাবার গ্রহণ করা যায়, যা শস্যবিহীন হতে হবে।
একাদশীর বৈচিত্র্যময় উদাহরণ
- নির্জলা একাদশী: পানিবিহীন উপবাস; যা ভীমদেব পালন করেছিলেন পুরষ্কার হিসাবে।
- মোক্ষদা একাদশী: পুরাতন পুণ্যের মুক্তি ও চলে যাওয়া আত্মাদের তপস্যার মাধ্যমে মুক্তি দেওয়ার ব্রত।
- প্রবোধিনী একাদশী: এটি শস্যটির ত্যাগ বা ‘ঔৎসব’ হিসেবে চিহ্নিত—গোপ্রতি অঙ্কিত আচার আচরণ পরিচালিত হয় ।
উপবাসের উপকারিতা
- অগ্নিপাচনার উন্নয়ন এবং শারীরিক বিষাক্ত উপাদান নির্মূল।
- মন ও ইন্দ্রিয়সংযমে পরিবর্তন, যা আধ্যাত্মিক বিকাশে সহায়তা করে।
- ভাবনাধারায় সৃজনশীলতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনের মনোভাব ঢেলে দেয়।
সারাংশ
একাদশীতিথি হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত পবিত্র উপবাস, যা শারীরিক ও আধ্যাত্মিক দুটো উভয়ভাবেই ফলপ্রদ। এটি বিষ্ণুভক্তি, নিরামিষ বা কঠিন উপবাস ও ভ্রাত্যসংস্কার নিয়ে তৈরি। নির্জলা একাদশীতে যেমন মহাপুণ্য থাকে, মোক্ষদা একাদশীতে তেমনি আত্ম- ও পিতৃমুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। তাই মেলারেখার মতো এই পবিত্র তিথি আমাদের নিয়মিত পালন করা উচিত।

Comments
Post a Comment